Sunday, 13 March 2022

সুরা ইখলাস বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ | Surah Ikhlach with bangla meaning

স্রষ্টার একত্ববাদের ঘোষণা বা একনিষ্ঠতা (Arabic: الْإِخْلَاص, আল-ইখলাস ) বা একত্ববাদ (আরবি: التوحيد‎‎, আত-তাওহীদ), যা সাধারণত সূরা আল-ইখলাস নামে পরিচিত, হলো কুরআনের ১১২ তম অনুচ্ছেদ (সূরা)। কুরআন শরীফের ১১২তম সূরা ইখলাস। 


অবতরণের পটভূমি

মুশরিকরা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) - কে আল্লাহ্‌ তা'আলার বংশ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল , যার উত্তরে এই সূরা নাযিল হয়। অন্য এক বিবরণে আছে যে , মদীনার ইহুদিরা এ প্রশ্ন করেছিল। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে যে , তারা আরও প্রশ্ন করেছিল- "আল্লাহ্‌ তা'আলা কিসের তৈরি ? স্বর্ণ-রৌপ্য নাকি অন্য কিছুর?" এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে


সুরা ইখলাস আরবি-বাংলা উচ্চারণ-অর্থসহ

بِسۡمِ اِ۬للَّهِ اِ۬لرَّحۡمَٰنِ اِ۬لرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

قُلۡ هُوَ ا۬للَّهُ اَحَدٌ ۝‎ - ১ ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ্ -১ বলুন ( হে নবি ), তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। 

اَ۬للَّهُ اَ۬لصَّمَدُ ۝‎ - ২ আল্লাহুস্ সামাদ্ - ২ তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। 

لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ ۝‎ - ৩ লাম্ ইয়ালিদ্ ওয়ালাম্ ইউলাদ্ - ৩ তিনি কাউকে জন্ম দেননি ; কেউ তাঁকে জন্ম দেননি।

وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُؤًا اَحَدٌۢ ۝‎ - ৪ ওয়ালাম্ ইয়াকুল্লাহু কুফুআন আহাদ - ৪ আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই ।


ব্যাখ্যা

মূল নিবন্ধসমূহ হচ্ছে শিরক ও ইসলামের দৃষ্টিতে একত্ত্ববাদ। ইসলামের প্রারম্ভিক বছরগুলোতে কুরআনের কিছু সূরা বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল, কখনও কখনও অঞ্চল অনুসারে বিভিন্ন সূরা বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। এই সূরাটি সেগুলোর মধ্যে একটি। সূরাটি তাওহীদের একটি সংক্ষিপ্ত ঘোষণা, আল্লাহর একত্ববাদ সমন্বিত চারটি আয়াত। আল-ইখলাস অর্থ "বিশুদ্ধতা" বা "একনিষ্ঠতা"।


এটি মক্কায় নাকি মদিনায় অবতীর্ণ তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।তবে সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হওয়ার তথ্যই সম্ভাব্য এবং যুক্তিযুক্ত, বিশেষত যেহেতু এটি আবিসিনিয়ার বিলাল দ্বারা প্রমাণিত হয়, যিনি তাঁর নিষ্ঠুর কর্তা দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছিলেন এবং "আহাদ, আহাদ!" (আল্লাহ) একক, একক! বারবার বলছিলেন। উবাই ইবনে কা’ব হতে বর্ণিত যে, সূরাটি অবতীর্ণ হয় মুশরিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে: "হে মুহাম্মাদ! তোমার প্রতিপালকের বংশপরিচয় আমাদেরকে বল।"


"তাফসির ইবনে কাসির" এ বলা হয়েছে,

যখন ইহুদিরা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র উযায়েরকে উপাসনা করি’ এবং খ্রিস্টানরা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র মাসীহ (ঈসা) এর উপাসনা করি’ এবং জুরোস্ত্রীরা বলে, ‘আমরা সূর্য ও চাঁদের উপাসনা করি’ এবং মুশরিকরা বলে ‘আমরা মূর্তিপূজা করি,' আল্লাহ তার রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, "বলুনঃ তিনিই আল্লাহ এক। তিনিই এক, একক, তার কোন সমকক্ষ নেই, কোন সহকারী নেই, প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, সমান এবং তার তুলনাও নেই।"

এই শব্দটি (আল-আহাদ) পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া আর কারও পক্ষে ব্যবহার করা যাবে না, কারণ তিনি (আল্লাহ) তার সমস্ত গুণাবলীতে ও কর্মে নিখুঁত।

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় পোস্ট